Friday, September 6, 2019
সাবজেক্ট রিভিউ: রাষ্ট্রবিজ্ঞান
রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পৃথিবীর সবচেয়ে আদি এবং শ্রেষ্ঠ বিষয়। মানুষ যখন থেকে সংঘবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্র নামক ব্যবস্থার অধীনে আসে তখন থেকেই এই বিষয়ের পথচলা, এই পথচলা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে রাজনীতি বিজ্ঞান নাম ধারণ করে। রাষ্টবিজ্ঞান না হয়ে রাজনীতি বিজ্ঞান এজন্যই যে রাজনীতির মধ্যে রাষ্ট্র ধারণ করে অনায়সেই।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পথচলার শুরু হতেই এই বিষয়ের যাত্রা শুরু হয় যদিওবা প্রাতিষ্ঠানিক বয়স কিছু পরে হয়। ধীরে ধীরে এই সাবজেক্ট নিজেকে এমন অবস্থানে উন্নীত করেছে যে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যে কয়েকটি ডিপার্টমেন্ট নিয়ে তার স্বকীয়তার পরিচয় দিতে গর্ববোধ করে এই ডিপার্টমেন্ট তাদেরই নেতৃত্বস্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে।
এই ডিপার্টমেন্ট এসে আপনি পাবেন ড. ভুঁইয়া মনোয়ার কবির স্যারের সাথে ১৯৪৭ থেকে বর্তমান বাংলাদেশের ইতিহাসের আলোচনায় নিজেকে ভাসিয়ে দিতে, কিংবা আনোয়ারা ম্যাডামের রসাত্মক ভঙ্গিতে জটিল জটিল তত্ত্বগুলোর সহজবোধ্য ভাষায় বর্ণনা নিতে, যদি তাতেও মন নাভরে তাহলে এসে হাজির হবেন আলম স্যার তার অত্যন্ত পরিমিত রসে মজাদার উপায়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিভিন্ন দিকপালের কথা বলতে। এমন করে আপনি পাবেন প্রায় প্রতিটি সাবজেক্টে বিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলীর সর্বোচ্চ সাহায্য। আর সবশেষে তো আছেই ডিপার্টমেন্ট বড় ভাইয়া,আপুদের সাহায্য, যারা আপনাকে গেঁথে নেবে এই ডিপার্টমেন্টে আপনার প্রথম পথচলার দিনেই।
এবার আসা যাক আপনি আগামী ৪বছরে কি কি পড়বেন?
আপনি যদি বিসিএস টার্গেট করেন তাহলে ধরে নেন রিটেনের প্রস্তুতির ৪০-৫০ভাগ আপনার সম্পূর্ণ হবে যদি আপনি মনোযোগী ছাত্র হন। প্রশাসনের বিভিন্ন পরিভাষা আপনার মুখে বুলি ফুটবে যা আপনাকে এগিয়ে রাখবে বিসিএস ভাইভাতে। যেমন আপনি পড়বেন রাষ্ট্রীয় নীতি, তুলনামূলক রাজনীতি, লোক প্রশাসন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি, ব্রিটিশ থেকে বাংলাদেশ পরিণত হওয়ার ইতিহাস, বাংলাদেশের সরকার, সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল, রুশো, কার্ল মার্ক্স, হবস, জন লক ইত্যাদি পৃথিবী বিখ্যাত মনিষীদের তত্ত্ব, তাদের জীবনধারা, সাথে করতে পারবেন তাদের সমালোচনা।
তবে এত দারুণ সব সাবজেক্ট পড়ে আপনি যদি শিক্ষকদের চাহিদামত লিখতে পারেন তাহলে ৩.৩০--৩.৬০ পর্যন্ত রেজাল্ট অনায়সেই করতে পারবেন, তবে শিক্ষকেরা আশায় আছেন আপনারা কেউ এসে স্যারদের থেকে জোর করে ৩.৮০-৪.০০ দখল করে নেওয়ার। তবে যতকথা এই পরীক্ষা নিয়ে, তা হল আমাদের ডিপার্টমেন্টের মজার দিক হল উনারা সহজে পরীক্ষা নিতে চাননা, ১২মাসকে ১৩/১৪/১৫মাস হলে উনারা পরীক্ষা নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন(যদিও বর্তমানে বছরের পরীক্ষা বছরেই নিয়ে নেন টিচাররা)। চার বছরের অনার্স শেষ করতে সাড়ে চার বছরের কিছু বেশি লাগে।
আর সবিশেষ ব্যাপার হল আপনি এই ৪/৫ বছর স্নাতক, স্নাতকোত্তর করে আপনি কি কি করতে পারবেন?
রাষ্ট্রবিজ্ঞান ডিপার্টমেন্ট এর সবচেয়ে ইউনিক দিকগুলি---
১ঃ বিসিএস পরীক্ষার জন্য বেস্ট প্রিপারেশন নেওয়ার জন্য আমাদের কোর্স রিলেটেড পড়াশোনাগুলো খুবই কার্যকরী। (প্রত্যেকবছরই বিসিএসে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের নজরকাড়া সাফল্য দেখা যায়)
২ঃ রোবোটিকস পড়াশোনা করা লাগবে না আপনাকে।
৩ঃ সকাল থেকে বিকেল টানা ক্লাস করার অসহ্য পেইন আপনাকে সহ্য করতে হবে নাহ।
৪ঃ রাজনৈতিক জ্ঞান আহরণের সর্বোচ্চ শিখরে পৌছতে চাইলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান এর জুড়ি নেই।
৫ঃ ভালো সিজিপিএ তোলার জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান ডিপার্টমেন্ট আপনার জন্য বেস্ট চয়েস হবে,খাটনি করে পড়াশোনা করলে ভালো মার্কস এর ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকতে পারা যায়(খামখেয়ালিপনা একদমই গ্রহনযোগ্য নয়,তখন হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে)।
খেলাধুলার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আধিপত্য সবারই জানা,ক্রিকেট এবং ফুটবল উভয় দিকে ভার্সিটির অন্যতম ডমিনেটিং টিম রাষ্ট্রবিজ্ঞান।
এখন দেখে নেওয়া যাক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান যদি কারও বিষয় হয়, তাহলে কেরিয়ারে কী কী অপশন খোলা রয়েছে?
প্রথমত বিসিএসে প্রভূত সুবিধাঃ যাদ্বারা এক্কেবারে সচিব হওয়ার সুযোগ আছে, আপনি যে ফ্যাকাল্টিতে আসছেন তার নাম সমাজ বিজ্ঞান আর সমাজ বিজ্ঞানের জন্য চাকরি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শুরু করে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড পর্যন্ত, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, এনজিও, বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক বিশ্লেষক, এবং সর্বোচ্চ কথা হল বাংলাদেশের প্রতিটি সরকারি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাবজেক্ট আপনি পাবেন। সুতারাং একথা নিশ্চিত আপনার রুটিরুজির অভাব হবেনা। মূলকথা হচ্ছে এই ডিপার্টমেন্ট আপনাকে জ্ঞানের এক অকূল সাগরে পাড়ি দিতে দক্ষ করে তুলবে। আর বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ এর কথা এসেই জানবেন।উচ্চতর ডিগ্রি ও গবেষণার জন্য USA, Canada, Australia এবং Europe-এর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করার সুযোগ রয়েছে।
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো: প্রথমত, অ্যাকাডেমিক লাইন তো খোলা আছেই। স্নাতকোত্তর স্তরে ৫৫ শতাংশ নম্বর এবং নেট/সেট পাশ করলে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। কেউ যদি না পড়িয়ে শুধুমাত্র গবেষণা করতে চায়, তবে তার সুযোগও ক্রমবর্ধমান। এমনিতেই ইউ জি সি-র ফেলোশিপ নিয়ে যে-কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা শুরু করা সম্ভব। গবেষণার বিষয় নানাবিধ হতে পারে।
সাধারণ ভাবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে রাজনৈতিক দর্শন, তুলনামূলক রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এই তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হলেও, জনসাধারণ, সমাজতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব প্রভৃতি নানাবিধ ক্ষেত্রে তার শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত। এ ছাড়াও মানবাধিকার, লিঙ্গবৈষম্য বা সেফোলজি-র মতো আকর্ষণীয় বিষয় চর্চার মাধ্যমে গবেষকদের চিন্তা ও কাজের পরিধি ক্রমশ বিস্তৃত হতে পারে। সাধারণত একটি গবেষণা আরও পাঁচটির সুযোগ ও পরিধিকে বিস্তৃত করে, নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়, কাজের সুযোগও বাড়ে।
মিডিয়ায় কাজের সুযোগ: নির্বাচন প্রক্রিয়ার কোনও একটি পর্যায় নিয়ে কেউ সাধারণ নির্বাচকমণ্ডলীর একটি অংশের প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে গবেষণা করতে চান। জানতে চান সাধারণের আচরণগত বৈশিষ্ট্য। সে ক্ষেত্রে নিজ গবেষণার পরিধি বাড়ালে অচিরেই তিনি এক জন ভোট-বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠতে পারেন। এখন মিডিয়া প্রতিযোগিতার কালে তাঁর চাহিদা তখন বাড়তে পারে। এর জন্য গবেষককে অবশ্যই নিয়মিত লেখালেখি চালিয়ে যেতে হবে, নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। কিন্তু এক বার প্রতিষ্ঠিত হলে তাঁর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না।
সাংবাদিকতাঃ অবশ্যই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পড়ুয়ারা সাংবাদিকতায় এলে সাফল্য পান। সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমে প্রতিদিন আমরা যে খবরগুলিকে প্রধান হয়ে উঠতে দেখি বা যেগুলি নিয়ে নিয়মিত চর্চা-বিশ্লেষণ বা সম্পাদকীয় রচনা চলে, তার অধিকাংশই রাজনৈতিক। সে ক্ষেত্রে কেউ যদি স্নাতকস্তর পর্যন্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ করে তার পর সাংবাদিকতায় মনোনিবেশ করেন, তবে তাঁর সাফল্য সুনিশ্চিত।
আইনের পথ খোলা: রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পড়ুয়ারা আইন ব্যবসাতেও অত্যন্ত সফল হন। সারা বিশ্বে লব্ধপ্রতিষ্ঠ যত জন আইনজ্ঞ রয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা অর্থনীতির পড়ুয়া। এখন উচ্চ মাধ্যমিকের পর সরাসরি আইন নিয়ে পড়া যায়। কিন্তু কেউ যদি স্নাতকস্তর পর্যন্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ নিয়ে তার পর আইন পাঠ করেন, তবে আরও দ্রুত বিষয়ে প্রবেশ সম্ভব।
রয়েছে NGO তে কাজএর সুযোগ: ছাড়াও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পড়ুয়ারা বিভিন্ন এনজিও সংগঠনে কাজ পেতে পারেন। বিশেষত কেউ যদি সোশ্যাল ওয়ার্ক বা মাস কমিউনিকেশনের একটা পর্যায় পর্যন্ত পেশাদারি শিক্ষা লাভ করেন তো কথাই নেই। প্রকৃত সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে স্বাধীন গবেষণাকেন্দ্রও গড়ে তোলা সম্ভব। উচ্চশিক্ষায় গবেষণামূলক কাজে যত বেশি বেসরকারি ক্ষেত্রের প্রসার ঘটবে, ততই গবেষকের স্বাধীনতা ও সৃষ্টিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
অবশেষে এতটুক বলতে পারি, নন-রোবোটিক্স অনার্স লাইফের জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান সেরা।
বর্ণিল এই ডিপার্টমেন্টে আপনাদের বরণ করব বলে অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছি।
এইবারের শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি সুখবর হল #চবি_রাজনীতি_বিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি অথাৎ সুর্বণ জয়ন্তী পালন করতে যাচ্ছে।শুধু মাত্র জুনিয়রদের সহ পালনের জন্য তা আগামী বছর বড় করে উদযাপন করবে। সো এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দাও ডিপার্টমেন্টের আপ কামিং জুনিয়ররা।
Wednesday, September 4, 2019
ব্রেক্সিট ইস্যু
লেখাঃ রিয়াদ বিন ইসলাম
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের অপসারণ, যা সংক্ষেপে ব্রেক্সিট (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তথা এক্সিট বোঝাতে ব্রেক্সিট শব্দটি ব্যবহার করা হয়) নামে পরিচিত।
ব্রিটেন ১৯৭৩ সালে ইউরোপিয়ান ইকোনমিক কমিউনিটির সঙ্গে সংযুক্ত হয়। এর লক্ষ্য ছিল সুলভ মূল্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য ও অভিন্ন বাজারসুবিধা। ১৯৯৩ সালে ইইউ নিজস্ব মুদ্রা, নীতিমালা, নাগরিকদের জন্য সীমানামুক্ত বিচরণসহ যুক্ত করাসহ অনেকগুলো পরিবর্তন আনে। কিন্তু অনেক ব্রিটিশ নাগরিক ব্রিটেনের ইইউ'র বিধি-নিষেধ মেনে চলা নিয়ে বেশ নাখোশ।
তাই ইইউ থেকে ব্রিটিশ জনগণের থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বা ব্রেক্সিট নিয়ে ৪০ বছরের বেশি সময় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার পর ২০১৬ সালের জুনে একটি গণভোট নিয়েছিল যুক্তরাজ্য, যেখানে ভোটাররা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে ভোট দেন।
কিন্তু সেই ভোটের ফলাফলের সঙ্গে সঙ্গেই ব্রেক্সিট হয়ে যায়নি। এই বিচ্ছেদ ঘটবে ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ তারিখে।
পটভূমিঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপে যখন জাতিতে জাতিতে অবিশ্বাস আর সন্দেহের দোলাচল, সেই সময় ১৯৪৬ সালে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিখ্যাত বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘ইউরোপে আমাদের একধরনের যুক্ত ইউরোপীয় রাষ্ট্র গড়ে তোলার চেষ্টা করা প্রয়োজন। ফ্রান্স ও জার্মানি এ ধরনের জোটের দায়িত্ব নিতে পারে।’ তবে তিনি নিজেদের ব্রিটিশ এম্পায়ার অব ইউনাইটেড স্টেট হিসেবে দেখতেই বেশি পছন্দ করেছিলেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের অপসারণ, যা সংক্ষেপে ব্রেক্সিট (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তথা এক্সিট বোঝাতে ব্রেক্সিট শব্দটি ব্যবহার করা হয়) নামে পরিচিত।
ব্রিটেন ১৯৭৩ সালে ইউরোপিয়ান ইকোনমিক কমিউনিটির সঙ্গে সংযুক্ত হয়। এর লক্ষ্য ছিল সুলভ মূল্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য ও অভিন্ন বাজারসুবিধা। ১৯৯৩ সালে ইইউ নিজস্ব মুদ্রা, নীতিমালা, নাগরিকদের জন্য সীমানামুক্ত বিচরণসহ যুক্ত করাসহ অনেকগুলো পরিবর্তন আনে। কিন্তু অনেক ব্রিটিশ নাগরিক ব্রিটেনের ইইউ'র বিধি-নিষেধ মেনে চলা নিয়ে বেশ নাখোশ।
তাই ইইউ থেকে ব্রিটিশ জনগণের থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বা ব্রেক্সিট নিয়ে ৪০ বছরের বেশি সময় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার পর ২০১৬ সালের জুনে একটি গণভোট নিয়েছিল যুক্তরাজ্য, যেখানে ভোটাররা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে ভোট দেন।
কিন্তু সেই ভোটের ফলাফলের সঙ্গে সঙ্গেই ব্রেক্সিট হয়ে যায়নি। এই বিচ্ছেদ ঘটবে ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ তারিখে।
পটভূমিঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপে যখন জাতিতে জাতিতে অবিশ্বাস আর সন্দেহের দোলাচল, সেই সময় ১৯৪৬ সালে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিখ্যাত বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘ইউরোপে আমাদের একধরনের যুক্ত ইউরোপীয় রাষ্ট্র গড়ে তোলার চেষ্টা করা প্রয়োজন। ফ্রান্স ও জার্মানি এ ধরনের জোটের দায়িত্ব নিতে পারে।’ তবে তিনি নিজেদের ব্রিটিশ এম্পায়ার অব ইউনাইটেড স্টেট হিসেবে দেখতেই বেশি পছন্দ করেছিলেন।
১৯৭৩ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের নেতৃত্বে ব্রিটিশ সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিলেও অনেক রক্ষণশীল এবং লেবার-দলীয় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বা তাঁদের সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নকে মনে-প্রাণে গ্রহণ করতে পারেনি। জোটে ইউরোপীয় মুদ্রাব্যবস্থা এবং ভিসা প্রথায়ও তাঁরা নিজেদের যুক্ত করেননি, কিন্তু ইউরোপীয় একক বাজারব্যবস্থার সুফল ভোগ করেছেন। যুক্তরাজ্য শুধু এই জোটের বন্ধু ও সমর্থক হিসেবে নয়, ইউরোপীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। জোটের মধ্যে ব্রিটিশদের ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ আচরণে বিরক্ত হয়ে ১৯৮৩ সালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গল বলেছিলেন, ‘ব্রিটিশরা আদতে ইউরোপে শুধু একটি দ্বীপরাষ্ট্র।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার কারণে যুক্তরাজ্যের কী ক্ষতি বা লাভ হচ্ছিল, এই বিষয়গুলো এখন আবার সামনে আসছে। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ব্যাংক খাতে যুক্তরাজ্যের দৈন্যদশা নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে। পুঁজি আর অর্থনৈতিক লাভের হিস্যা নিয়ে হঠাৎ আবেগতাড়িত হয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাওয়া বিষয়ে খোদ যুক্তরাজ্যে প্রচুর সমালোচনা হচ্ছে।
এতে বলা হয়েছে, অংশীদারত্ব থেকে সরে আসতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে কী পরিমাণ অর্থ দিতে হবে ব্রিটেনকে। বিচ্ছেদের আগে বিভিন্ন সময় সম্মত হওয়া আর্থিক এ দায় তিন হাজার ৯০০ কোটি পাউন্ডের মতো হবে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাস করা ব্রিটিশ নাগরিকদের ভাগ্যে কী ঘটবে। পাশাপাশি ব্রিটেনে বাস করা অন্য ইউরোপীয় দেশের নাগরিকদের কী হবে- চুক্তিতে তাও বলা হয়েছে। এতে ব্রিটেনে বাস করা ইউরোপীয় নাগরিক ও ইউরোপে ছড়িয়ে থাকা ব্রিটিশ নাগরিকদের সুরক্ষা ও অবাধ চলাচলে ইতি ঘটবে।
যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের আধিক্য দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে এ নিয়ে ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি রয়েছে। ইইউ'র নিয়ম অণুযায়ী ইইউভুক্ত ২৮টি দেশের নাগরিক ভিসা ছাড়াই এক দেশ থেকে আরেক দেশে প্রবেশ করার অধিকার রাখে। আর সে কারণে ডেভিড ক্যামেরন সরকার তার প্রথম মেয়াদে ইইউ'র বাইরের দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে সক্ষম হলেও ইইউভুক্ত নাগরিকদের প্রবেশ ঠেকাতে পারেনি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্বিতীয় মেয়াদে ইইউভুক্ত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশ নিরুৎসাহিত করতে চার বছরের জন্য সুবিধা ভাতা বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেন ক্যামেরন। এতে খুশি হতে পারেননি ইইউভুক্ত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। তারা সদস্য দেশের নাগরিকদের সুবিধা ভাতা প্রদানে বৈষম্য করা হলে তা হবে ইইউর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক হবে বলে দাবি তোলেন। আর এ কারণেই যুক্তরাজ্যকে ইইউতে রাখা না রাখার ব্যাপারে প্রশ্ন তৈরি হয়।
ব্রেক্সিট প্রশ্নে ইইউভুক্ত নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে অভিবাসীদের সুবিধা সীমিত করাসহ চারটি সংস্কার প্রস্তাব দেন ক্যামেরন এবং পরবর্তীতে সে প্রস্তাব নিয়ে ক্যামেরনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছান ইইউ নেতারা। ইইউ’র সঙ্গে সমঝোতার পর দেশে ফিরে ব্রেক্সিটের জন্য গণভোটের তারিখ ঘোষণা করেন ক্যামেরন এবং ২০১৬ সালের ২৩ জুন গণভোটে অণুষ্ঠিত হয়। ব্রিটেনের ইইউতে থাকা না থাকার প্রশ্নে দেশটির জনগণই ঐ গণভোটে চূড়ান্ত রায় দেন।
ভোটের ফলাফলঃ
ইইউতে যুক্তরাজ্যের থাকার বিপক্ষে ৫২ শতাংশ ও পক্ষে ৪৮ শতাংশ ভোট পড়ে। ইইউতে থাকার পক্ষে লন্ডন ও স্কটল্যান্ড শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে। এই দুই অঞ্চলে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট ইউরোপের পক্ষে। তবে ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে ইইউতে থাকার বিপক্ষে ভোট বেশি পড়েছে। এই গণভোটে ব্যাপক হারে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। এমনকি ব্রিটেনের ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনেও এত ভোট পড়েনি।
গণভোটে ইইউ এর সাথে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদের রায় পাওয়ার পর একই বছরের ২৪ জুন প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ডেভিড ক্যামেরুন। ক্যামেরুনের পদত্যাগের পর যুক্তরাজ্যের ৭৬তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন টেরেসা মে।
গণভোটে ইইউ এর সাথে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদের রায় পাওয়ার পর একই বছরের ২৪ জুন প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ডেভিড ক্যামেরুন। ক্যামেরুনের পদত্যাগের পর যুক্তরাজ্যের ৭৬তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন টেরেসা মে।
ব্রেক্সিট চুক্তিঃ
ব্রেক্সিট নিয়ে ভোটাভুটির পর, প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাজ্য আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
এই আলোচনার বিষয়, কী শর্তে বিচ্ছেদ হবে। এটা হচ্ছে বেরিয়ে আসার সমঝোতা যেখানে নির্ধারণ করা হবে, যে কী কী শর্তে ব্রিটেন ব্রেক্সিট থেকে বেরিয়ে আসবে। ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পরে কি ঘটবে, তা আলোচ্য বিষয় নয়।
গত বুধবার এই বিচ্ছেদের বিষয়ে খসড়া চুক্তি তুলে ধরেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে। এখানে তার মূল বিষয়গুলো:
ব্রেক্সিট নিয়ে ভোটাভুটির পর, প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাজ্য আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
এই আলোচনার বিষয়, কী শর্তে বিচ্ছেদ হবে। এটা হচ্ছে বেরিয়ে আসার সমঝোতা যেখানে নির্ধারণ করা হবে, যে কী কী শর্তে ব্রিটেন ব্রেক্সিট থেকে বেরিয়ে আসবে। ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পরে কি ঘটবে, তা আলোচ্য বিষয় নয়।
গত বুধবার এই বিচ্ছেদের বিষয়ে খসড়া চুক্তি তুলে ধরেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে। এখানে তার মূল বিষয়গুলো:
অর্থকড়ি: ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেনা চুকাতে যুক্তরাজ্য ৩৯ বিলিয়ন পাউন্ড দিবে।
সময়সীমা: ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ থেকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যিক বিষয় ঠিক করে নেবে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মানিয়ে নেবে।
অভিবাসন: ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকরা এবং তাদের পরিবার মুক্তভাবে যুক্তরাজ্যে আসতে পারবেন।
সময়সীমা: ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ থেকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যিক বিষয় ঠিক করে নেবে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মানিয়ে নেবে।
অভিবাসন: ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকরা এবং তাদের পরিবার মুক্তভাবে যুক্তরাজ্যে আসতে পারবেন।
বাণিজ্য: অন্তর্বর্তী সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোন পরিবর্তন হবে না।
উত্তর আয়ারল্যান্ড: ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা যুক্তরাজ্য, কেউ চায় না উত্তর আয়ারল্যান্ড আর রিপাবলিক অফ আয়ারল্যান্ডের মাঝে কোন কড়া সীমান্ত থাকুক। তাই দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে, ব্রেক্সিট নিয়ে বোঝাপড়ায় যাই ঘটুক না কেন, এখানে সীমান্ত উন্মুক্ত থাকবে।
উত্তর আয়ারল্যান্ড ও রিপাবলিক অফ আয়ারল্যান্ডঃ
পুরো ব্রেক্সিট আলোচনার মধ্যে এটা দুই পক্ষের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কোন পক্ষই চায় না, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও রিপাবলিক অফ আয়ারল্যান্ডের মাঝে প্রহরী চৌকি, তল্লাশি ঘটুক।
সুতরাং তারা একটি 'ব্যাকস্টপে' সম্মত হয়েছে, যার মানে এই দুইটি দেশের মাঝে কখনোই কড়াকড়ি সীমান্ত থাকবে না।
এর মানে পুরো যুক্তরাজ্যে না হলেও উত্তর আয়ারল্যান্ডে খাবার, পণ্যের মানে কিছু ইইউ রীতিনীতি অব্যাহত থাকবে।
এই পদ্ধতি শুধুমাত্র তখনি কার্যকর হবে, যদি ইইউ আর যুক্তরাজ্যের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সময়েও কোন বাণিজ্য চুক্তি না হয়।
কিন্তু বিষয়টি বিতর্কিত। অনেকে হয়তো বলবেন, এর ফলে যুক্তরাজ্যকে এখনো ইইউ আইনের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। আবার উত্তর আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে আলাদা বিধিবিধান থাকবে, এটাও অনেকে পছন্দ করছেন না।
প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে'র ব্রেক্সিট চুক্তিটি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হলো না কেন?
তার নিজের রক্ষণশীল দলেরই ১১৮ জন এমপি এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। বিশাল ব্যবধানে, ৪৩২-২০২ ভোটে - প্রস্তাবটি পরাজিত হয়েছে, যা বিস্মিত করেছে সবাইকে।
কেন এমন হলো? এর পেছনে করেছে বহু রকমের কারণ, যা বেশ জটিল।
উত্তর আয়ারল্যান্ড: ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা যুক্তরাজ্য, কেউ চায় না উত্তর আয়ারল্যান্ড আর রিপাবলিক অফ আয়ারল্যান্ডের মাঝে কোন কড়া সীমান্ত থাকুক। তাই দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে, ব্রেক্সিট নিয়ে বোঝাপড়ায় যাই ঘটুক না কেন, এখানে সীমান্ত উন্মুক্ত থাকবে।
উত্তর আয়ারল্যান্ড ও রিপাবলিক অফ আয়ারল্যান্ডঃ
পুরো ব্রেক্সিট আলোচনার মধ্যে এটা দুই পক্ষের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কোন পক্ষই চায় না, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও রিপাবলিক অফ আয়ারল্যান্ডের মাঝে প্রহরী চৌকি, তল্লাশি ঘটুক।
সুতরাং তারা একটি 'ব্যাকস্টপে' সম্মত হয়েছে, যার মানে এই দুইটি দেশের মাঝে কখনোই কড়াকড়ি সীমান্ত থাকবে না।
এর মানে পুরো যুক্তরাজ্যে না হলেও উত্তর আয়ারল্যান্ডে খাবার, পণ্যের মানে কিছু ইইউ রীতিনীতি অব্যাহত থাকবে।
এই পদ্ধতি শুধুমাত্র তখনি কার্যকর হবে, যদি ইইউ আর যুক্তরাজ্যের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সময়েও কোন বাণিজ্য চুক্তি না হয়।
কিন্তু বিষয়টি বিতর্কিত। অনেকে হয়তো বলবেন, এর ফলে যুক্তরাজ্যকে এখনো ইইউ আইনের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। আবার উত্তর আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে আলাদা বিধিবিধান থাকবে, এটাও অনেকে পছন্দ করছেন না।
প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে'র ব্রেক্সিট চুক্তিটি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হলো না কেন?
তার নিজের রক্ষণশীল দলেরই ১১৮ জন এমপি এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। বিশাল ব্যবধানে, ৪৩২-২০২ ভোটে - প্রস্তাবটি পরাজিত হয়েছে, যা বিস্মিত করেছে সবাইকে।
কেন এমন হলো? এর পেছনে করেছে বহু রকমের কারণ, যা বেশ জটিল।
প্রথম কথা : ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে কোন সীমান্ত চৌকি, দেয়াল বা বেড়া - এসব কিছুই নেই। এক দেশের লোক অবাধে যখন-যেভাবে খুশি আরেক দেশে যেতে পারে, অন্য দেশে গিয়ে কাজ করতে পারে।
কিন্তু ব্রিটেন যদি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে তো ব্রিটেন অন্য দেশ হয়ে গেল। ফ্রি মুভমেন্ট অব পিপল - যা ইইউএর মূল নীতির অন্যতম স্তম্ভ - তা আর তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, এবং সেক্ষেত্রে ব্রিটেন ও ইইউ-র মধ্যে সীমান্ত ফাঁড়ি থাকতে হবে। এক দেশের লোক বা পণ্য আরেক দেশে যেতে হলে কাস্টমস চেকিং পার হতে হবে।
কিন্তু ব্রিটেন হলো একটা দ্বীপপুঞ্জ। ইউরোপ ও ব্রিটেনের মধ্যে আছে সমুদ্র - ইংলিশ চ্যানেল এবং নর্থ সী। এই সাগরই সীমান্ত।
কিন্তু একটি-দুটি ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম আছে। যেমন আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র এবং উত্তর আয়ারল্যান্ড মিলে একটি আলাদা দ্বীপ।
উত্তর আয়ারল্যান্ড ব্রিটেনের অংশ। আর আইরিশ প্রজাতন্ত্র একটি পৃথক দেশ এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য । এ দুয়ের মধ্যে আছে স্থল সীমান্ত ।তাই ব্রেক্সিটের পর এটিই পরিণত হবে ইউরোপ আর ব্রিটেনের স্থল সীমান্তে।
ব্রিটেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে গেলেই এ সীমান্তে কাস্টমস চৌকি বসাতে হবে।
আয়ারল্যান্ড আর উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যে যত মানুষ ও পণ্য এখন মুক্তভাবে চলাচল করে - তখন তা আর থাকবে না।
শত শত ট্রাক-বাসকে এখানে থামতে হবে, কাস্টমস চেকিং-এর জন্য লাইন দিতে হবে, পণ্য চলাচলে অনেক সময় ব্যয় হবে, দিতে হবে শুল্ক।
কিন্তু অন্যদিকে দেখুন - এই দুই আয়ারল্যান্ডের মানুষের ভাষা এক, সংস্কৃতি এক, অনেক পরিবারেরই দুই শাখা দুদিকে বাস করে। ইইউর অংশ হবার কারণে এতদিন সেখানকার লোকেরা মুক্তভাবে একে অন্যের দেশে গিয়ে চাকরি-বাকরি ব্যবসাবাণিজ্য করতেন ।
এই সবকিছুর মধ্যেই তখন নানা বাধার দেয়াল উঠে যাবে।
আরো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, উত্তর আয়ারল্যান্ডে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সহিংস বিদ্রোহের অবসানের জন্য হওয়া গুড ফ্রাইডে চুক্তিতেও আয়ারল্যান্ডের দুই অংশের যোগাযোগ যেভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে - তাও এতে বিপন্ন হতে পারে।
এটা যাতে না হয় - সেজন্যই ব্রেক্সিটের পরের জন্য টেরিজা মে'র পরিকল্পনায় ছিল 'ব্যাকস্টপ' নামে এক ব্যবস্থা।
দুই প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগঃ
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ ‘ব্রেক্সিট’ নিয়ে গৃহবিবাদের জের ধরে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। মন্ত্রিসভা ও দলীয় আইনপ্রণেতাদের প্রবল চাপের মুখে পদত্যাগ করেন।
২০১৬ সালের জুন মাসে ব্রেক্সিট গণভোটের পরাজয় মেনে নিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে ক্ষমতায় বসেছিলেন থেরেসা মে। কিন্তু ব্রেক্সিট কার্যকর করতে পারেননি। বরং এ নিয়ে তিনি তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েন। শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় আসার তিন বছরের মাথায় ব্রেক্সিট গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে না পারার ব্যর্থতা নিয়ে সরে দাঁড়াচ্ছেন মে। ফলে ব্রেক্সিট ইস্যুতে ডেভিড ক্যামেরনের মতো পরিণতি হয়েছে থেরেসা মেরও।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থেরেসা মে গত তিন বছরের পুরোটাই যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে এক বিচিত্র অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। এ সময় তাঁর মন্ত্রিসভা থেকে ৩৬ জন পদত্যাগ করেন, যাঁদের ২১ জন শুধু ব্রেক্সিট বিরোধের জের ধরে পদত্যাগ করেছেন। দেশটিতে এত অল্প সময়ে এত বেশিসংখ্যক মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা আর ঘটেনি। কেবল বিরোধী লেবার দলকে কোণঠাসা করতে ২০১৭ সালে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিয়েছিলেন মে।
ওই নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে মে নিজেই কোণঠাসা হয়ে পড়েন। মাত্র ১০ আসন জেতা উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির সঙ্গে সমঝোতা করে তিনি সরকারে বহাল থাকেন। ওই নির্বাচনই তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। গত জানুয়ারি মাসে তাঁর উত্থাপিত ব্রেক্সিট চুক্তি ২৩০ ভোটের ব্যবধানে প্রত্যাখ্যাত হয়। এটিও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সরকারের সবচেয়ে শোচনীয় পরাজয়ের রেকর্ড। এ ছাড়া স্বল্পতম সময়ে বিদায় নেওয়া প্রধানমন্ত্রীদের তালিকার পঞ্চম স্থানে যুক্ত হতে যাচ্ছেন মে।
আবেগঘন বক্তব্যে থেরেসা মে বলেন, ২০১৬ সালের গণভোটে যুক্তরাজ্যের মানুষ যে রায় দিয়েছিলেন, তা কার্যকরে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। এই ‘গভীর বেদনাদায়ক’ ব্যর্থতা তাঁকে বাকি জীবন পীড়া দেবে।
ইইউর সঙ্গে সম্পাদিত বিচ্ছেদ বিলে সমর্থন আদায়ে বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতার সব চেষ্টা করেছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যিনিই দায়িত্ব নেন না কেন, পার্লামেন্টে সমঝোতার ভিত্তিতেই ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করতে হবে।
ব্রেক্সিট কার্যকরে থেরেসা মে দীর্ঘ আড়াই বছরের চেষ্টায় ইইউর সঙ্গে একটি বিচ্ছেদ চুক্তি করেছিলেন। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও তিনি এই চুক্তিতে নিজ দলের কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী ও পার্লামেন্টের বিরোধী দলগুলোর সমর্থন নিতে পারেননি। থেরেসা মের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের কাজটি আরও জটিল হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন দেশটির রাজনীতি-বিশ্লেষকেরা।
কাশ্মীর সমস্যা
কাশ্মীর: ভূ-স্বর্গ থেকে নরকে পরিণত হবার করুণ ইতিহাস
লেখাঃ রিয়াদ বিন ইসলাম
কাশ্মীর নামটি শুনলেই ভেসে উঠে লাশের মিছিল নিয়ে আর্তনাদ করা ভয়ানক এক নগরীর। প্রতিটি সেকেন্ড কাটাতে হয় সীমা হীন অনিরাপত্তার চাদরে। কিন্তু আবার এই কাশ্মীরকেই বলা হয় ভূ-স্বর্গ! কেন কাশ্মীরের এই করুন পরিণতি? কারা দায়ী? কেনই বা সৃষ্টি হয় সংঘাতের? ব্রিটিশ শাসিত ভারত উপমহাদেশের যে কয়টি স্থান নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল কাশ্মীর তাদের মধ্যে অন্যতম। কাশ্মীরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও রাজনীতিকসমস্যা ও সমাধান নিয়ে বিস্তারিতআলোচনাঃ
ভৌগলিক অবস্থা ও জলবায়ুঃ
কাশ্মীরের অবস্থান মধ্য হিমালয়ে।কাশ্মীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার। বানিহাল থেকে বারামুলা। আর প্রস্থে ৪২ কিলোমিটার।বৃষ্টির পরিমাণ খুবই কম, তবে বৃষ্টির একদম দেখা মিলে না এই রকম না। মার্চ-এপ্রিল মাসে পশ্চিমের ভূ-মধ্যসাগরে থেকে বয়ে আসা শীতল ওপুবালী বাতাসে বৃষ্টি হয়। চারপাশেরপর্বত সারির মধ্যে সমতল ভূমিতেমানুষের বসবাস। কাশ্মীরের পশ্চিমদিকে পর্বতের বেষ্টনী উন্মুক্ত হয়ে চলেগেছে নদী আর সড়ক। ওয়াল্টারআর. লরেঞ্জ’র বর্ণনায় কাশ্মীরহলো, “ কালো পর্বতমালার মধ্যেএক খন্ড জমিন সাদা পায়ের ছাপেরমতো”।বর্তমান ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীররাজ্য (যেটি জম্মু, কাশ্মীর উপত্যকা ও লাদাখেরসমন্বয়ে গঠিত), পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরও গিলগিত-বালতিস্তান অঞ্চলদ্বয় এবং চীন-নিয়ন্ত্রিতআকসাই চিন ও ট্রান্স-কারাকোরাম ট্র্যাক্ট অঞ্চলদ্বয় বৃহত্তর কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্ত। ।
সভ্যতার বিকাশ ও ধর্মীয় সম্প্রীতি :
হিন্দু মিথোলজি অনুসারে ‘কাশ্বাপ’নামে এক সাধু তীর্থযাত্রা কালে জানতেপারেন স্বতিস্বর নামে এক জলাশয়েরকথা। স্বতিসর ভূতের দখলে ছিল বলেপ্রচলিত ছিল। সাধুর ইচ্ছায় দেবীসারিকা পক্ষীর আকারে সেখানেউপস্থিত হন এবং স্বর্গীয় পাথরেরসাহায্যে ভূতদের বিতাড়িত করেন। পরবর্তীতে ঐ পাথর থেকে সৃষ্টি হয়পর্বতমালার, যেটা বর্তমানে কাশ্মীরনামে পরিচিত। সাধুর নামেই বর্তমানকাশ্মীরের নাম করন করা হয়েছে বলেধারনা করা হয়।
বৈজ্ঞানিক ধারণা মতে রাশিয়ান প্লেট ওইন্ডিয়ান প্লেটের মধ্যে সংঘর্ষের ফলেএই উপত্যকা সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এখানে মানববসতি স্থাপন হয়েছে ৩০০০ বছরআগে। কাশ্মীরের আদি বাসিন্দাদেরমূলত তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করাহয়েছে- নাগ, পিশাচ ও ইয়াক্ষা । এসবগোষ্ঠী লেক বা নালার পাশে বাসকরত। তাদের বন্য পশু ও সাপের সাথেলড়াই করতে হত বলে তাদেরকে এসবনামে ডাকা হত বলে মনে করা হয়।
স্থানীয় ভাষায় কাশ্মীরকে বলা হয়‘কাশীর’ নামে। যার অর্থ দাড়ায় যেখানে‘কশুর’ লোকেরা বাস করে। মাংসভক্ষন করত বলে তাদের কশুর বলেঅভিহিত করা হত। শীতল ও নিরিবিলিহওয়ায় কাশ্মীর যুগে যুগে সাধু ও কবিসাহিত্যিকদের তীর্থ স্থানে পরিণতহয়েছে।
প্রথম এক শতক ব্রাহ্মণ বাদ ও বৌদ্ধশাসনের আসা যাওয়ার মধ্য দিয়েঅতিবাহিত হয়েছে। কাশ্মীরে বৌদ্ধ ধর্মক্রমান্বয়ে প্রবেশ করে বানারাসের একদূতের মাধ্যমে। তার নাম ছিলমাঝান্তিকা। তিনি ধীরে ধীরে বৌদ্ধধর্মের প্রচার ও প্রসার ঘটান। এ সময়সম্রাট অশোক ছিল ক্ষমতায়। তিনিমাঝান্তিকাকে বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারেসহায়তা করেন। একই সময়ে শিবইজমও প্রচারিত হতে থাকে। কিন্তু সম্রাটঅশোকের একান্ত ইচ্ছার ফলে বৌদ্ধধর্ম ব্যাপক হারে বিস্তৃতি লাভ করে। তার মৃত্যুর পর বৌদ্ধ ধর্ম গুরুরা ব্রাহ্মণআবাদূতের কাছে ধর্মীয় তর্কে হেরেযায়। ফলে নতুন করে শুরু হয় শিবধর্মের প্রচারনা । ঐ সময় থেকে হিন্দুতথা ব্রাহ্মনবাদ ও বৌদ্ধ ধর্ম গোড়াগেথেঁ যায় কাশ্মীর ভূ-খন্ডে। বর্তমানপরিসংখ্যান অনুযায়ী, কাশ্মীরে ৬৮.৩% মুসলিম, ২৮.৪% হিন্দু, ১.৯% শিখ, ০.৯% বৌদ্ধ, এবং ০.৩% খ্রীষ্ট ধর্মেরঅনুসারী বসবাস করে।
কাশ্মীরে ইসলাম ধর্মের আগমন কোনরাজার দখল বা শোষণের মাধ্যমেআসে নি। বিভিন্ন সূফী ও পীরদেরমাধ্যমে ধীরে ধীরে বিস্তৃতি লাভ করেইসলাম। ইতিহাস অনুযায়ী, ইসলামসরাসরি আরব থেকে কাশ্মীরে এসেছেমধ্য এশিয়ার ভায়া হয়ে। ফলেপরবর্তীতে কাশ্মীর বিভিন্ন মুসলিমশাসকদের অনুকূল ছিল। উল্লেখযোগ্যযে, কাশ্মীরের পর্যটন কেন্দ্রগুলোরসিংহভাগই গড়ে তুলেছিলেন মোগলশাসকরা।
কাশ্মীর বিক্রির করুনইতিহাস :
মোগল শাসকদের পরবর্তীতে আফগানশাসনের অধীনে ছিল কাশ্মীর, যদিওআফগান শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয় নি। ১৮১৯ সালে কাশ্মীর দখল করেশিখরা। শিখদের মূল দরবার ছিললাহোরে। শিখ সাম্রাজ্যের রাজা ছিলেনরঞ্জিত সিং। এই সাম্রাজ্যের অধীনেছিল জম্মুর ডোগরা জমিদার গুলাবসিং। কিন্তু ডোগরা জমিদারেরাব্রিটিশদের তোষামোদ করতে ব্যস্তছিল। ঐ সময় ভারতের বিস্তর অংশইছিল ব্রিটিশদের দখলে। ১৮৩৯ সালেরঞ্জিত সিং মারা গেলে দুর্বল হয়ে পড়েশিখ সাম্রাজ্য। ১৮৪৫ সালের ১৩ডিসেম্বর ব্রিটিশ জেনারেল লর্ড হার্ডিঞ্জশিখদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। যুদ্ধে গুলাব সিং শিখদের কোন প্রকারসাহায্য করে নি, যদিও সে শিখসাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। প্রথম ব্রিটিশশিখ যুদ্ধে ব্রিটিশরা বিজয়ী হয় এবংএকই সাথে শিখ সাম্রাজ্য ইস্ট ইন্ডিয়াকোম্পানীর অন্তর্গত হয়। ব্রিটিশদেরপ্রতি আনুগত্য প্রকাশের পুরস্কারহিসেবে ১৮৪৬ সালের ১৬ মার্চ, অমৃতসরে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। উক্ত চুক্তি অনুযায়ী ৭৫ লাখ রুপিরবিনিময়ে গুলাব সিংকে কাশ্মীর সহকয়েকটি পাহাড়ি জেলার মালিকানাদেয় ব্রিটিশ সরকার। চুক্তি অনুসারেঐ খানকার মানুষগুলো মূলত হয়েছিলকেনা বেচা। গুলাব সিং খুশি হয়েপ্রতিবছর একটা ঘোড়া, ১২ টা ছাগলএবং তিন জোড়া কাশ্মিরী শাল প্রদানকরত ব্রিটিশ সরকারকে।
কাশ্মীরের এই কেনা বেচাকে মহাত্মাগান্ধী ‘ডিড অব সেল’ হিসেবেআখ্যায়িত করেছিলেন। সাংবাদিকআর এস গুল লিখেছেন, “ ডাচদেরকাছে নিউ ইয়র্ক সিটি বিক্রি হয়েছিল১৬১৪ সালে মাত্র ২৪ ডলারে, রাশিয়ারকাছ থেকে মাত্র ৭.২ মিলিয়ন ডলারেআলাস্কা কিনেছিল আমেরিকা। ১৭০বছর পরও ৭৫ লাখ রুপির এই ক্রয়চুক্তি, এখনও কাশ্মীরি জাতি সত্তারসমস্যার মূল হিসেবে সামনে আসছে।” তার পরের এক শতাব্দী চলে ডোগরাজমিদার দের কুশাসন। তারা প্রায়প্রতিটি পণ্য বস্তুর উপর কর আরোপকরেছিল। ডোগরা শাসকরা ব্যয়েরচেয়ে সঞ্চয়ের প্রতি বেশি মনোযোগীছিল। ১৮৬৮ সালে উপত্যকায়রেভেনিউ আদায় হয়েছিল ১৮ লাখ ৩৬হাজার ৩১৮ রুপি!
ইতিহাসঃ
১৯২৫ সালে হরি সিং কাশ্মীরের রাজা হন। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা লাভ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন কাশ্মীরের শাসক। ১৯৪৭ সালে ভারত-বিভাজনের অন্যতম শর্ত ছিল, ভারতের দেশীয় রাজ্যের রাজারা ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দিতে পারবেন, অথবা তাঁরা স্বাধীনতা বজায় রেখে শাসনকাজ চালাতে পারবেন। ১৯৪৭ সালের ২২ অক্টোবর পাকিস্তান-সমর্থিত পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার বিদ্রোহী নাগরিক এবং পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পশতুন উপজাতিরা কাশ্মীর রাজ্য আক্রমণ করে।
কাশ্মীরের রাজা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলেও গভর্নর-জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটেনের কাছে সহায়তা চাইলেন। কাশ্মীরের রাজা ভারতভুক্তির পক্ষে স্বাক্ষর করবেন, এই শর্তে মাউন্টব্যাটেন কাশ্মীরকে সাহায্য করতে রাজি হন। ১৯৪৭ সালের ২৬ অক্টোবর হরি সিং কাশ্মীরের ভারতভুক্তির চুক্তিতে সই করেন।২৭ অক্টোবর তা ভারতের গভর্নর-জেনারেল কর্তৃক অনুমোদিত হয়। চুক্তি সই হওয়ার পর, ভারতীয় সেনা কাশ্মীরে প্রবেশ করে অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ভারত বিষয়টি রাষ্ট্রসংঘে উত্থাপন করে। রাষ্ট্রসংঘ ভারত ও পাকিস্তানকে তাদের অধিকৃত এলাকা খালি করে দিয়ে রাষ্ট্রসংঘের তত্ত্বাবধানে গণভোটের প্রস্তাব দেয়। ভারত প্রথমে এই প্রস্তাবে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু ১৯৫২ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচিত গণপরিষদ ভারতভুক্তির পক্ষে ভোট দিলে ভারত গণভোটের বিপক্ষে মত দেয়।ভারত ও পাকিস্তানে রাষ্ট্রসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি তত্ত্বাবধানে আসে। এই গোষ্ঠীর কাজ ছিল, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা ও তদন্তের রিপোর্ট প্রত্যেক পক্ষ ও রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের কাছে জমা দেওয়া। যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে কাশ্মীর থেকে উভয় পক্ষের সেনা প্রত্যাহার ও গণভোটের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু ভারত গণভোটে অসম্মত হয় এবং এজন্য পাকিস্তান সেনা প্রত্যাহারে অসম্মত হয়। ভারত গণভোট আয়োজনে অসম্মত হয় এজন্য যে, এটা নিশ্চিত ছিল যে গণভোটে মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীরের বেশিরভাগ ভোটারই পাকিস্তানের পক্ষে ভোটদান করবেন ও এতে কাশ্মীরে ভারত ত্যাগের আন্দোলন আরো বেশী জোড়ালো হবে।
মুসলিম প্রধান কাশ্মীর ও অন্যান্য কারণকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হয়। এরপর ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ও ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধ হয়।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর নিয়ে ১৯৪৭, ১৯৬৫ এবং ১৯৯৯-এ অন্ততঃ তিনটি যুদ্ধ হয়েছে। এছাড়াও,১৯৮৪ সালের পর থেকে সিয়াচেন হিমবাহ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই দুই দেশ বেশ কয়েকটি খণ্ডযুদ্ধে জড়িত হয়েছিল। ভারত সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যটি তাদের বলে দাবি করে এবং যার মধ্যে ২০১০ সালের হিসাবে, জম্মু বেশিরভাগ অংশ, কাশ্মীর উপত্যকা, লাডাখ এবং সিয়াচেন হিমবাহ নিয়ে প্রায় ৪৩% অঞ্চল শাসন করছে। পাকিস্তান এই দাবির বিরোধিতা করে, যারা প্রায় কাশ্মীরের ৩৭% নিয়ন্ত্রণ করে- এর মধ্যে আছে আজাদ কাশ্মীর এবং গিলগিট বাল্টিস্থানের উত্তরাঞ্চল।
কাশ্মীরি বিদ্রোহীরা এবং ভারত সরকারের মধ্যে বিরোধের মূল বিষয়টি হল স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন। কাশ্মীরের গণতান্ত্রিক উন্নয়ন ১৯৭০-এর শেষভাগ পর্যন্ত ছিল সীমিত এবং ১৯৮৮ সালের মধ্যে ভারত সরকার কত্তৃক প্রদত্ত বহু গণতান্ত্রিক সংস্কার বাতিল হয়ে গিয়েছিল । অহিংস পথে অসন্তোষ জ্ঞাপন করার আর কোনো রাস্তাই খোলা ছিল না তাই ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য বিদ্রোহীদের হিংসাত্মক আন্দোলনের সমর্থন নাটকীয়ভাবে বাড়তে থাকে। ১৯৮৭ সালে বিতর্কিত বিধানসভা নির্বাচন রাজ্যের বিধানসভার কিছু সদস্যদের সশস্ত্র বিদ্রোহীগোষ্ঠী গঠনে অনুঘটকের কাজ করেছিল। ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল, ধর্মঘট এবং আক্রমণের মাধ্যমে শুরু হয় কাশ্মীরের অস্থিরতা।
যদিও জম্মু ও কাশ্মীরের অশান্তির ফলে হাজারো মানুষ মারা গেছে, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেখা গেছে যে সংঘাতে প্রাণহানীর পরিমাণ অনেকটাই কম। প্রতিবাদী আন্দোলন ভারত সরকারের কাছে কাশ্মীরের সমস্যা ও ক্ষোভ জানানোর শক্তি যুগিয়েছে, বিশেষ করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে, যারা ১৯৮৯ সালে থেকে ভারত শাসিত কাশ্মীরে সক্রিয় রয়েছে । যদিও বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী ২০০৮ সালের নির্বাচন বয়কটের ডাক দেয় তবুও বহু সংখ্যক ভোটার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার এই নির্বাচনকে সাধারণভাবে নিরপেক্ষ হিসাবে গণ্য করে। এই নির্বাচনে জয়লাভ করে ভারতপন্থী জম্মু ও কাশ্মীর ন্যাশানাল কনফারেন্স রাজ্যে সরকার গঠন করে। ভয়েস অফ আমেরিকা অনুযায়ী, বহু বিশ্লেষকের মতে এই নির্বাচনে উচ্চ সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি - কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের ভারতের শাসনকে সমর্থন করার ইঙ্গিত দেয়। কাশ্মীরের একজন বিশিষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সাজ্জাদ লোন যদিও দাবি করেন "উচ্চ সংখ্যক ভোটদানের হার"-কে কখনই কাশ্মীরিরা যে আর স্বাধীনতা চান না তার একটি ইঙ্গিত হিসাবে গ্রহণ না করা হয়। ২০০৯ ও ২০১০ সালে আবার অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
বিভাজন সংকট ওদুর্ভাগ্য বরণ :
১৯৪৭ সালে, ব্রিটিশরা যখন বিদায়নেয় তখন তারা ৫৬২ টি প্রিন্সলিস্টেটকে হয় ভারত নয় পাকিস্তানে যোগদিতে বলে। ভারতের স্টেট গুলোভারতে এবং পাকিস্তানের গুলোপাকিস্তানে যোগ দেয়। কিন্তু ৩ টি স্টেটস্বাধীন থাকতে চেয়েছিল। হায়দ্রাবাদ, জুনগর এবং জম্মু ও কাশ্মীর। এদেরমধ্যে হায়দ্রাবাদ এবং জুনগর ছিলহিন্দু সংখ্যা গরিষ্ঠ কিন্তু তাদের রাজাছিল মুসলিম। জনগণ বিক্ষোভ করেভারতে যোগদান করার জন্য, ফলেভারতীয় সেনাবাহিনী এ্যাকশনে যায়এবং দখল করে নেয়। পরবর্তীতে গনভোটের মাধ্যমে বৈধতা হাসিল করেনেয়।
অপরদিকে, জম্মু এবং কাশ্মীরেরজনসংখ্যা ছিল মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠকিন্তু রাজা ছিল হরি সিং। হরি সিংশুরুতে স্বাধীন থাকতে চেয়েছিলেনএবং একই সাথে নেহেরু ও জিন্নাহসাথে দেন দরবারও করছিলেন। হরিসিং কাশ্মীরকে এশিয়ার সুইজারল্যান্ডহিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অংশ করতেজিন্নাহ ছিল বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনিকাশ্মীরকে তার পকেটে রাখা ‘ব্লাঙ্কচেক’ বলে আখ্যায়িত করেন। রাজাহরি সিং এর উপর নেহেরুর আস্থা ছিলকম। নেহেরু, জেলে বন্দি শেখআবদুল্লার মুক্তি চাচ্ছিল। স্বাধীন হবার১৩ দিন পূর্বে রাজা হরি সিংপাকিস্তানের সাথে ‘স্ট্যান্ড স্টিল’ চুক্তিসাইন করে। কিন্তু ভারত এই চুক্তিতেএকমত হয়নি।
দুটি নতুন দেশ জন্ম হবার ফলে বিভিন্নঅঞ্চলে মুসলিম-শিখ-হিন্দু দের মধ্যেদাঙ্গার সৃষ্টি হয়। কাশ্মীরেও একইপরিস্থিতি সৃষ্টি হলে মুসলিমউপজাতিরা পাকিস্তানে পলায়ন করতেথাকে। এই ঘটনায় পাকিস্তান ক্ষুব্ধ হয়েপাহাড়ি নন স্টেট বাহিনীকে কাশ্মীরেরনিয়ন্ত্রণের জন্য প্রেরণ করেন, ২২ শেঅক্টোবর। কারণ চুক্তির কারণেসেনাবাহিনী সরাসরি আক্রমন করতেপারে নাই। বাহিনীর আক্রমনেকাশ্মীরের অধিকাংশ অঞ্চল রাজারনিয়ন্ত্রণেরও বাইরে চলে যায়। তারইপ্রতিক্রিয়ায় মহারাজা হরি সিংভারতের সাহায্য প্রার্থনা করেন। শেখআবদুল্লাহ (কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীনেতা) পরাশর্মক্রমে ভারতের সাথেচুক্তি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তুভারত সরকার তাদের সাথে যুক্ত হবারশর্ত জুড়ে দেয় এবং রাজা হরি সিং তামেনে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায়স্বাক্ষরিত হয় ‘ইন্সট্রুমেন্ট অবএসেশন’।
পাকিস্তান এই চুক্তিকে মেনে নেয় নি, তারা দাবি করে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে হরিসিংকে বাধ্য করা হয়েছে চুক্তি করতে। চুক্তির পর দিন ভারত তার নিয়মিতসৈন্য বাহিনী প্রেরণ করে এবং ননস্টেট বাহিনীকে হটিয়ে কাশ্মীরের দখলনেয়। একই সময় পাকিস্তানও তাদেরসেনাবাহিনী প্রেরণ করে। ফলে স্বাধীনহবার প্রথম বছরেরই যুদ্ধ বেঁধে যায়দুটি নতুন দেশের মধ্যে। চুক্তি অনুসারেহরি সিং কাশ্মীরে পূর্ণ স্বায়ত্তত্বশাসনচেয়ে নেন এবং শেখ আবদুল্লাহকেঅন্তর্বর্তী কালীন সরকারের প্রধানঘোষণা করেন। এই যুদ্ধের ফলেকাশ্মীর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এক অংশ চলে যায় ভারতের নিয়ন্ত্রণে। যার নাম হয় জম্মু এবং কাশ্মীর এবংপাকিস্তানের অংশের নাম হয় আজাদকাশ্মীর।
জাতিসংঘে কাশ্মীর :
১৯৪৮ সালে কাশ্মীর সমস্যা নিয়েবৈশ্বিক সমাধানের জন্য ভারত ওপাকিস্তান উভয় দেশ জাতি সংঘেরসাহায্য প্রার্থনা করে। সমস্যা সমাধানেরজন্য জাতিসংঘ ভারত ও পাকিস্তানসংকট সমাধান বিষয়ক কমিশন গঠনকরে। সমাধান হিসেবে নিরাপত্তাপরিষদের রিজুলেশন ৪৭ প্রস্তাব করাহয় যেখানে ভারত এবং পাকিস্তানকেতাদের নিজ নিজ সৈন্য সরানোরনির্দেশ দেওয়া হয় এবং সর্বশেষ গণভোটের আয়োজন করতে বলা হয়। কিন্তু দিন শেষে ভারত এবং পাকিস্তানকোন পক্ষই তাদের সৈন্য হটিয়ে নেয়নি। কার্যত জাতিসংঘের সমাধান ব্যর্থহয়ে যায়। ১৯৪৮ সালে অস্ত্র বিরতিচুক্তির মাধ্যমে লড়াই বন্ধ হয় এবং১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তি অনুযায়ীভারত এবং পাকিস্তান কাশ্মীরসমস্যাকে নিজেদের মধ্যে সমাধানকরার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং একইসাথে ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ অবতারনাকরা হয়। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালেভারত চীন যুদ্ধের ফলে চীন আকসাইচীন অঞ্চল দখল করে নেয়। আবার, পাকিস্তানের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে(The Trans Karakorum Tract) কাশ্মীরের বিশাল একটি অংশ, সাশগ্রাম ভ্যালি চীনকে উপহার দেয়। ফলে মূল কাশ্মীর ভূখণ্ড তিন ভাগেবিভক্ত হয়ে যায়।
অপরদিকে ১৯৪৮ সালে ভারতীয়সরকার শেখ আবদুল্লাহকে প্রধানমন্ত্রীপদে ঘোষণা করে কাশ্মীরকে পূর্ণ সায়ত্ত্বশাসন দিয়ে দেয়। কাশ্মীরসম্পর্কে ভারতীয় সংবিধানে একটিআর্টিকেল রয়েছে যা আর্টিকেল৩৭০ নামে বেশ পরিচিত। এরই মধ্যেদিয়ে বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রবাহিতহয়েছে কাশ্মীরের করুণ ইতিহাস। কাশ্মীরের সাধারন জনগণের উপরচলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নানাবিধঅত্যাচার। কারণ কাশ্মীরের জনগণপরাধীন থাকতে চায় না, তাদের দাবিএকটাই নিজেদের প্রাপ্য অধিকারফিরে পাওয়া। এখনো কাশ্মীরেরপ্রতিটি অলি গলিতে স্লোগান ওঠে, “ হক হামারা আজাদি, সিনকে লংঙ্গেআজাদি”
===সংবিধানের ৩৭০ নং অনুচ্ছেদ===
৩৭০ ধারা সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল ১৯৪৯ সালের ১৭ অক্টোবর। এই ধারাবলে জম্মুকাশ্মীরকে ভারতীয় সংবিধানের আওতামুক্ত রাখা হয় (অনুচ্ছেদ ১ ব্যতিরেকে) এবং ওই রাজ্যকে নিজস্ব সংবিধানের খসড়া তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়। এই ধারা বলে ওই রাজ্যে সংসদের ক্ষমতা সীমিত। ভারতভুক্তি সহ কোনও কেন্দ্রীয় আইন বলবৎ রাখার জন্য রাজ্যের মত নিলেই চলে। কিন্তু অন্যান্য বিষয়ে রাজ্য সরকারের একমত হওয়া আবশ্যক। ১৯৪৭ সালে, ব্রিটিশ ভারতকে ভারত ও পাকিস্তানে বিভাজন করে ভারতীয় সাংবিধানিক আইন কার্যকর হওয়ার সময়কাল থেকেই ভারতভুক্তির বিষয়টি কার্যকরী হয়।
ভারতভুক্তির শর্ত হিসেবে জম্মু কাশ্মীরে ভারতীয় সংসদ প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ- এই তিনটি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে ক্ষমতাধর।
৩৭০ ধারাকে সাময়িক বলে বিবেচনা করা যেতেই পারে। জম্মু কাশ্মীর বিধানসভা এ ধারা পরিবর্তন করতে পারত, একে বিলোপ করতে পারত বা একে ধারণ করতে পারত। বিধানসভা একে ধারণ করার পক্ষে মত দেয়। আরেকটি ব্যাখ্যা হল- গণভোট না হওয়া পর্যন্ত ভারতভুক্তির সিদ্ধান্ত সাময়িক বলে গণ্য।
রাষ্ট্রপতির আদেশের ভিত্তিতে অনুচ্ছেদ ৩৭০ (৩) বিলোপ করা যেতেই পারে। তবে তেমন নির্দেশের জন্য জম্মু কাশ্মীরের গণপরিষদের সম্মতি প্রয়োজন। কিন্তু গণপরিষদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে ২৬ জানুয়ারি, ১৯৫৭-তে। ফলে একটা মত হল, ৩৭০ ধারা আর বিলোপ করা যেতে পারে না। তবে এ ব্যাপারে আরেকটি মতও রয়েছে, সেটা হল রাজ্য বিধানসভার সম্মতিক্রমে এই বিলোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
৩৭০ ধারার ১ নং অনুচ্ছেদ উল্লিখিত হয়েছে, যেখানে রাজ্যগুলির তালিকায় জম্মু-কাশ্মীরকে রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে ৩৭০ ধারার মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীরে সংবিধান লাগু হবে। তবে ১৯৬৩ সালের ২৭ নভেম্বর নেহরু লোকসভায় বলেছিলেন যে ৩৭০ ধারার ক্ষয় হয়েছে। জম্মু কাশ্মীরে ভারতীয় সংবিধান কার্যকর রাখার জন্য অন্তত ৪৫ বার ৩৭০ ধারা ব্যবহার করা হয়েছে। এ ভাবে রাষ্ট্রপতির আদেশের ভিত্তিতে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রায় নাকচ করা হয়েছে। ১৯৫৪ সালের নির্দেশ মোতাবেক প্রায় গোটা সংবিধানই, সমস্ত সংশোধনী সহ জম্মু-কাশ্মীরে কার্যকর করা হয়েছে। ৯৭টির মধ্যে ৯৪টি যুক্তরাষ্ট্রীয় তালিকা জম্মু কাশ্মীরে লাগু, ৩৯৫ টি অনুচ্ছেদের মধ্যে ২৬০টি রাজ্যে কার্যকর, ১৩টির মধ্যে ৭টি তফশিলও লাগু রয়েছে সেখানে।
জম্মু কাশ্মীরের সংবিধান সংশোধনের জন্য ৩৭০ ধারাকে একাধিকবার ব্যবহার করা হয়েছে যদিও ৩৭০ ধারার অন্তর্গত ভাবে রাষ্ট্রপতিরও সে ক্ষমতা নেই। পাঞ্জাবে এক বছরের বেশি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি রাখতে সরকারের ৫৯তম, ৬৪ তম, ৬৭ তম এবং ৬৮তম সংবিধান সংশোধনী প্রয়োজন হয়েছিল। কিন্তু জম্মুকাশ্মীরের ক্ষেত্রে শুধু ৩৭০ ধারা প্রয়োগ করেই সে কাজ চলে যায়। তালিকাভুক্ত রাজ্যগুলির জন্য আইন প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ২৪৯ নং অনুচ্ছেদ জম্মু কাশ্মীরে লাগু করার জন্য বিধানসভায় কোনও প্রস্তাব পাশ করানো হয়নি, রাজ্যপালের সুপারিশের ভিত্তিতেই তা কার্যকর হয়ে যায়। এসব দিক থেকে দেখলে ৩৭০ ধারা জম্মু কাশ্মীরের অধিকারকে অন্য রাজ্যগুলির তুলনায় খর্ব করে। এখন ৩৭০ ধারা, জম্মু কাশ্মীরের থেকে ভারত রাষ্ট্রের পক্ষে বেশি সহায়ক।
2019 খ্রিস্টাব্দের 5 আগস্ট ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ জম্মু ও কাশ্মীর 370 ধারা এবং 35A ধারা কে অকার্যকর করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা ও সুযোগ সুবিধা খর্ব করেন। এবং জম্মু ও কাশ্মীরকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে সেই দুটিকে ভারতের দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
জম্মু কাশ্মীরের সংবিধানের ৩ নং অনুচ্ছেদে বলা রয়েছে যে জম্মু কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ভৌগলিক অবস্থা ও জলবায়ুঃ
কাশ্মীরের অবস্থান মধ্য হিমালয়ে।কাশ্মীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার। বানিহাল থেকে বারামুলা। আর প্রস্থে ৪২ কিলোমিটার।বৃষ্টির পরিমাণ খুবই কম, তবে বৃষ্টির একদম দেখা মিলে না এই রকম না। মার্চ-এপ্রিল মাসে পশ্চিমের ভূ-মধ্যসাগরে থেকে বয়ে আসা শীতল ওপুবালী বাতাসে বৃষ্টি হয়। চারপাশেরপর্বত সারির মধ্যে সমতল ভূমিতেমানুষের বসবাস। কাশ্মীরের পশ্চিমদিকে পর্বতের বেষ্টনী উন্মুক্ত হয়ে চলেগেছে নদী আর সড়ক। ওয়াল্টারআর. লরেঞ্জ’র বর্ণনায় কাশ্মীরহলো, “ কালো পর্বতমালার মধ্যেএক খন্ড জমিন সাদা পায়ের ছাপেরমতো”।বর্তমান ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীররাজ্য (যেটি জম্মু, কাশ্মীর উপত্যকা ও লাদাখেরসমন্বয়ে গঠিত), পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরও গিলগিত-বালতিস্তান অঞ্চলদ্বয় এবং চীন-নিয়ন্ত্রিতআকসাই চিন ও ট্রান্স-কারাকোরাম ট্র্যাক্ট অঞ্চলদ্বয় বৃহত্তর কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্ত। ।
সভ্যতার বিকাশ ও ধর্মীয় সম্প্রীতি :
হিন্দু মিথোলজি অনুসারে ‘কাশ্বাপ’নামে এক সাধু তীর্থযাত্রা কালে জানতেপারেন স্বতিস্বর নামে এক জলাশয়েরকথা। স্বতিসর ভূতের দখলে ছিল বলেপ্রচলিত ছিল। সাধুর ইচ্ছায় দেবীসারিকা পক্ষীর আকারে সেখানেউপস্থিত হন এবং স্বর্গীয় পাথরেরসাহায্যে ভূতদের বিতাড়িত করেন। পরবর্তীতে ঐ পাথর থেকে সৃষ্টি হয়পর্বতমালার, যেটা বর্তমানে কাশ্মীরনামে পরিচিত। সাধুর নামেই বর্তমানকাশ্মীরের নাম করন করা হয়েছে বলেধারনা করা হয়।
বৈজ্ঞানিক ধারণা মতে রাশিয়ান প্লেট ওইন্ডিয়ান প্লেটের মধ্যে সংঘর্ষের ফলেএই উপত্যকা সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এখানে মানববসতি স্থাপন হয়েছে ৩০০০ বছরআগে। কাশ্মীরের আদি বাসিন্দাদেরমূলত তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করাহয়েছে- নাগ, পিশাচ ও ইয়াক্ষা । এসবগোষ্ঠী লেক বা নালার পাশে বাসকরত। তাদের বন্য পশু ও সাপের সাথেলড়াই করতে হত বলে তাদেরকে এসবনামে ডাকা হত বলে মনে করা হয়।
স্থানীয় ভাষায় কাশ্মীরকে বলা হয়‘কাশীর’ নামে। যার অর্থ দাড়ায় যেখানে‘কশুর’ লোকেরা বাস করে। মাংসভক্ষন করত বলে তাদের কশুর বলেঅভিহিত করা হত। শীতল ও নিরিবিলিহওয়ায় কাশ্মীর যুগে যুগে সাধু ও কবিসাহিত্যিকদের তীর্থ স্থানে পরিণতহয়েছে।
প্রথম এক শতক ব্রাহ্মণ বাদ ও বৌদ্ধশাসনের আসা যাওয়ার মধ্য দিয়েঅতিবাহিত হয়েছে। কাশ্মীরে বৌদ্ধ ধর্মক্রমান্বয়ে প্রবেশ করে বানারাসের একদূতের মাধ্যমে। তার নাম ছিলমাঝান্তিকা। তিনি ধীরে ধীরে বৌদ্ধধর্মের প্রচার ও প্রসার ঘটান। এ সময়সম্রাট অশোক ছিল ক্ষমতায়। তিনিমাঝান্তিকাকে বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারেসহায়তা করেন। একই সময়ে শিবইজমও প্রচারিত হতে থাকে। কিন্তু সম্রাটঅশোকের একান্ত ইচ্ছার ফলে বৌদ্ধধর্ম ব্যাপক হারে বিস্তৃতি লাভ করে। তার মৃত্যুর পর বৌদ্ধ ধর্ম গুরুরা ব্রাহ্মণআবাদূতের কাছে ধর্মীয় তর্কে হেরেযায়। ফলে নতুন করে শুরু হয় শিবধর্মের প্রচারনা । ঐ সময় থেকে হিন্দুতথা ব্রাহ্মনবাদ ও বৌদ্ধ ধর্ম গোড়াগেথেঁ যায় কাশ্মীর ভূ-খন্ডে। বর্তমানপরিসংখ্যান অনুযায়ী, কাশ্মীরে ৬৮.৩% মুসলিম, ২৮.৪% হিন্দু, ১.৯% শিখ, ০.৯% বৌদ্ধ, এবং ০.৩% খ্রীষ্ট ধর্মেরঅনুসারী বসবাস করে।
কাশ্মীরে ইসলাম ধর্মের আগমন কোনরাজার দখল বা শোষণের মাধ্যমেআসে নি। বিভিন্ন সূফী ও পীরদেরমাধ্যমে ধীরে ধীরে বিস্তৃতি লাভ করেইসলাম। ইতিহাস অনুযায়ী, ইসলামসরাসরি আরব থেকে কাশ্মীরে এসেছেমধ্য এশিয়ার ভায়া হয়ে। ফলেপরবর্তীতে কাশ্মীর বিভিন্ন মুসলিমশাসকদের অনুকূল ছিল। উল্লেখযোগ্যযে, কাশ্মীরের পর্যটন কেন্দ্রগুলোরসিংহভাগই গড়ে তুলেছিলেন মোগলশাসকরা।
কাশ্মীর বিক্রির করুনইতিহাস :
মোগল শাসকদের পরবর্তীতে আফগানশাসনের অধীনে ছিল কাশ্মীর, যদিওআফগান শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয় নি। ১৮১৯ সালে কাশ্মীর দখল করেশিখরা। শিখদের মূল দরবার ছিললাহোরে। শিখ সাম্রাজ্যের রাজা ছিলেনরঞ্জিত সিং। এই সাম্রাজ্যের অধীনেছিল জম্মুর ডোগরা জমিদার গুলাবসিং। কিন্তু ডোগরা জমিদারেরাব্রিটিশদের তোষামোদ করতে ব্যস্তছিল। ঐ সময় ভারতের বিস্তর অংশইছিল ব্রিটিশদের দখলে। ১৮৩৯ সালেরঞ্জিত সিং মারা গেলে দুর্বল হয়ে পড়েশিখ সাম্রাজ্য। ১৮৪৫ সালের ১৩ডিসেম্বর ব্রিটিশ জেনারেল লর্ড হার্ডিঞ্জশিখদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। যুদ্ধে গুলাব সিং শিখদের কোন প্রকারসাহায্য করে নি, যদিও সে শিখসাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। প্রথম ব্রিটিশশিখ যুদ্ধে ব্রিটিশরা বিজয়ী হয় এবংএকই সাথে শিখ সাম্রাজ্য ইস্ট ইন্ডিয়াকোম্পানীর অন্তর্গত হয়। ব্রিটিশদেরপ্রতি আনুগত্য প্রকাশের পুরস্কারহিসেবে ১৮৪৬ সালের ১৬ মার্চ, অমৃতসরে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। উক্ত চুক্তি অনুযায়ী ৭৫ লাখ রুপিরবিনিময়ে গুলাব সিংকে কাশ্মীর সহকয়েকটি পাহাড়ি জেলার মালিকানাদেয় ব্রিটিশ সরকার। চুক্তি অনুসারেঐ খানকার মানুষগুলো মূলত হয়েছিলকেনা বেচা। গুলাব সিং খুশি হয়েপ্রতিবছর একটা ঘোড়া, ১২ টা ছাগলএবং তিন জোড়া কাশ্মিরী শাল প্রদানকরত ব্রিটিশ সরকারকে।
কাশ্মীরের এই কেনা বেচাকে মহাত্মাগান্ধী ‘ডিড অব সেল’ হিসেবেআখ্যায়িত করেছিলেন। সাংবাদিকআর এস গুল লিখেছেন, “ ডাচদেরকাছে নিউ ইয়র্ক সিটি বিক্রি হয়েছিল১৬১৪ সালে মাত্র ২৪ ডলারে, রাশিয়ারকাছ থেকে মাত্র ৭.২ মিলিয়ন ডলারেআলাস্কা কিনেছিল আমেরিকা। ১৭০বছর পরও ৭৫ লাখ রুপির এই ক্রয়চুক্তি, এখনও কাশ্মীরি জাতি সত্তারসমস্যার মূল হিসেবে সামনে আসছে।” তার পরের এক শতাব্দী চলে ডোগরাজমিদার দের কুশাসন। তারা প্রায়প্রতিটি পণ্য বস্তুর উপর কর আরোপকরেছিল। ডোগরা শাসকরা ব্যয়েরচেয়ে সঞ্চয়ের প্রতি বেশি মনোযোগীছিল। ১৮৬৮ সালে উপত্যকায়রেভেনিউ আদায় হয়েছিল ১৮ লাখ ৩৬হাজার ৩১৮ রুপি!
ইতিহাসঃ
১৯২৫ সালে হরি সিং কাশ্মীরের রাজা হন। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা লাভ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন কাশ্মীরের শাসক। ১৯৪৭ সালে ভারত-বিভাজনের অন্যতম শর্ত ছিল, ভারতের দেশীয় রাজ্যের রাজারা ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দিতে পারবেন, অথবা তাঁরা স্বাধীনতা বজায় রেখে শাসনকাজ চালাতে পারবেন। ১৯৪৭ সালের ২২ অক্টোবর পাকিস্তান-সমর্থিত পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার বিদ্রোহী নাগরিক এবং পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পশতুন উপজাতিরা কাশ্মীর রাজ্য আক্রমণ করে।
কাশ্মীরের রাজা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলেও গভর্নর-জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটেনের কাছে সহায়তা চাইলেন। কাশ্মীরের রাজা ভারতভুক্তির পক্ষে স্বাক্ষর করবেন, এই শর্তে মাউন্টব্যাটেন কাশ্মীরকে সাহায্য করতে রাজি হন। ১৯৪৭ সালের ২৬ অক্টোবর হরি সিং কাশ্মীরের ভারতভুক্তির চুক্তিতে সই করেন।২৭ অক্টোবর তা ভারতের গভর্নর-জেনারেল কর্তৃক অনুমোদিত হয়। চুক্তি সই হওয়ার পর, ভারতীয় সেনা কাশ্মীরে প্রবেশ করে অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ভারত বিষয়টি রাষ্ট্রসংঘে উত্থাপন করে। রাষ্ট্রসংঘ ভারত ও পাকিস্তানকে তাদের অধিকৃত এলাকা খালি করে দিয়ে রাষ্ট্রসংঘের তত্ত্বাবধানে গণভোটের প্রস্তাব দেয়। ভারত প্রথমে এই প্রস্তাবে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু ১৯৫২ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচিত গণপরিষদ ভারতভুক্তির পক্ষে ভোট দিলে ভারত গণভোটের বিপক্ষে মত দেয়।ভারত ও পাকিস্তানে রাষ্ট্রসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি তত্ত্বাবধানে আসে। এই গোষ্ঠীর কাজ ছিল, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা ও তদন্তের রিপোর্ট প্রত্যেক পক্ষ ও রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের কাছে জমা দেওয়া। যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে কাশ্মীর থেকে উভয় পক্ষের সেনা প্রত্যাহার ও গণভোটের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু ভারত গণভোটে অসম্মত হয় এবং এজন্য পাকিস্তান সেনা প্রত্যাহারে অসম্মত হয়। ভারত গণভোট আয়োজনে অসম্মত হয় এজন্য যে, এটা নিশ্চিত ছিল যে গণভোটে মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীরের বেশিরভাগ ভোটারই পাকিস্তানের পক্ষে ভোটদান করবেন ও এতে কাশ্মীরে ভারত ত্যাগের আন্দোলন আরো বেশী জোড়ালো হবে।
মুসলিম প্রধান কাশ্মীর ও অন্যান্য কারণকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হয়। এরপর ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ও ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধ হয়।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর নিয়ে ১৯৪৭, ১৯৬৫ এবং ১৯৯৯-এ অন্ততঃ তিনটি যুদ্ধ হয়েছে। এছাড়াও,১৯৮৪ সালের পর থেকে সিয়াচেন হিমবাহ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই দুই দেশ বেশ কয়েকটি খণ্ডযুদ্ধে জড়িত হয়েছিল। ভারত সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যটি তাদের বলে দাবি করে এবং যার মধ্যে ২০১০ সালের হিসাবে, জম্মু বেশিরভাগ অংশ, কাশ্মীর উপত্যকা, লাডাখ এবং সিয়াচেন হিমবাহ নিয়ে প্রায় ৪৩% অঞ্চল শাসন করছে। পাকিস্তান এই দাবির বিরোধিতা করে, যারা প্রায় কাশ্মীরের ৩৭% নিয়ন্ত্রণ করে- এর মধ্যে আছে আজাদ কাশ্মীর এবং গিলগিট বাল্টিস্থানের উত্তরাঞ্চল।
কাশ্মীরি বিদ্রোহীরা এবং ভারত সরকারের মধ্যে বিরোধের মূল বিষয়টি হল স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন। কাশ্মীরের গণতান্ত্রিক উন্নয়ন ১৯৭০-এর শেষভাগ পর্যন্ত ছিল সীমিত এবং ১৯৮৮ সালের মধ্যে ভারত সরকার কত্তৃক প্রদত্ত বহু গণতান্ত্রিক সংস্কার বাতিল হয়ে গিয়েছিল । অহিংস পথে অসন্তোষ জ্ঞাপন করার আর কোনো রাস্তাই খোলা ছিল না তাই ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য বিদ্রোহীদের হিংসাত্মক আন্দোলনের সমর্থন নাটকীয়ভাবে বাড়তে থাকে। ১৯৮৭ সালে বিতর্কিত বিধানসভা নির্বাচন রাজ্যের বিধানসভার কিছু সদস্যদের সশস্ত্র বিদ্রোহীগোষ্ঠী গঠনে অনুঘটকের কাজ করেছিল। ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল, ধর্মঘট এবং আক্রমণের মাধ্যমে শুরু হয় কাশ্মীরের অস্থিরতা।
যদিও জম্মু ও কাশ্মীরের অশান্তির ফলে হাজারো মানুষ মারা গেছে, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেখা গেছে যে সংঘাতে প্রাণহানীর পরিমাণ অনেকটাই কম। প্রতিবাদী আন্দোলন ভারত সরকারের কাছে কাশ্মীরের সমস্যা ও ক্ষোভ জানানোর শক্তি যুগিয়েছে, বিশেষ করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে, যারা ১৯৮৯ সালে থেকে ভারত শাসিত কাশ্মীরে সক্রিয় রয়েছে । যদিও বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী ২০০৮ সালের নির্বাচন বয়কটের ডাক দেয় তবুও বহু সংখ্যক ভোটার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার এই নির্বাচনকে সাধারণভাবে নিরপেক্ষ হিসাবে গণ্য করে। এই নির্বাচনে জয়লাভ করে ভারতপন্থী জম্মু ও কাশ্মীর ন্যাশানাল কনফারেন্স রাজ্যে সরকার গঠন করে। ভয়েস অফ আমেরিকা অনুযায়ী, বহু বিশ্লেষকের মতে এই নির্বাচনে উচ্চ সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি - কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের ভারতের শাসনকে সমর্থন করার ইঙ্গিত দেয়। কাশ্মীরের একজন বিশিষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সাজ্জাদ লোন যদিও দাবি করেন "উচ্চ সংখ্যক ভোটদানের হার"-কে কখনই কাশ্মীরিরা যে আর স্বাধীনতা চান না তার একটি ইঙ্গিত হিসাবে গ্রহণ না করা হয়। ২০০৯ ও ২০১০ সালে আবার অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
বিভাজন সংকট ওদুর্ভাগ্য বরণ :
১৯৪৭ সালে, ব্রিটিশরা যখন বিদায়নেয় তখন তারা ৫৬২ টি প্রিন্সলিস্টেটকে হয় ভারত নয় পাকিস্তানে যোগদিতে বলে। ভারতের স্টেট গুলোভারতে এবং পাকিস্তানের গুলোপাকিস্তানে যোগ দেয়। কিন্তু ৩ টি স্টেটস্বাধীন থাকতে চেয়েছিল। হায়দ্রাবাদ, জুনগর এবং জম্মু ও কাশ্মীর। এদেরমধ্যে হায়দ্রাবাদ এবং জুনগর ছিলহিন্দু সংখ্যা গরিষ্ঠ কিন্তু তাদের রাজাছিল মুসলিম। জনগণ বিক্ষোভ করেভারতে যোগদান করার জন্য, ফলেভারতীয় সেনাবাহিনী এ্যাকশনে যায়এবং দখল করে নেয়। পরবর্তীতে গনভোটের মাধ্যমে বৈধতা হাসিল করেনেয়।
অপরদিকে, জম্মু এবং কাশ্মীরেরজনসংখ্যা ছিল মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠকিন্তু রাজা ছিল হরি সিং। হরি সিংশুরুতে স্বাধীন থাকতে চেয়েছিলেনএবং একই সাথে নেহেরু ও জিন্নাহসাথে দেন দরবারও করছিলেন। হরিসিং কাশ্মীরকে এশিয়ার সুইজারল্যান্ডহিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অংশ করতেজিন্নাহ ছিল বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনিকাশ্মীরকে তার পকেটে রাখা ‘ব্লাঙ্কচেক’ বলে আখ্যায়িত করেন। রাজাহরি সিং এর উপর নেহেরুর আস্থা ছিলকম। নেহেরু, জেলে বন্দি শেখআবদুল্লার মুক্তি চাচ্ছিল। স্বাধীন হবার১৩ দিন পূর্বে রাজা হরি সিংপাকিস্তানের সাথে ‘স্ট্যান্ড স্টিল’ চুক্তিসাইন করে। কিন্তু ভারত এই চুক্তিতেএকমত হয়নি।
দুটি নতুন দেশ জন্ম হবার ফলে বিভিন্নঅঞ্চলে মুসলিম-শিখ-হিন্দু দের মধ্যেদাঙ্গার সৃষ্টি হয়। কাশ্মীরেও একইপরিস্থিতি সৃষ্টি হলে মুসলিমউপজাতিরা পাকিস্তানে পলায়ন করতেথাকে। এই ঘটনায় পাকিস্তান ক্ষুব্ধ হয়েপাহাড়ি নন স্টেট বাহিনীকে কাশ্মীরেরনিয়ন্ত্রণের জন্য প্রেরণ করেন, ২২ শেঅক্টোবর। কারণ চুক্তির কারণেসেনাবাহিনী সরাসরি আক্রমন করতেপারে নাই। বাহিনীর আক্রমনেকাশ্মীরের অধিকাংশ অঞ্চল রাজারনিয়ন্ত্রণেরও বাইরে চলে যায়। তারইপ্রতিক্রিয়ায় মহারাজা হরি সিংভারতের সাহায্য প্রার্থনা করেন। শেখআবদুল্লাহ (কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীনেতা) পরাশর্মক্রমে ভারতের সাথেচুক্তি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তুভারত সরকার তাদের সাথে যুক্ত হবারশর্ত জুড়ে দেয় এবং রাজা হরি সিং তামেনে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায়স্বাক্ষরিত হয় ‘ইন্সট্রুমেন্ট অবএসেশন’।
পাকিস্তান এই চুক্তিকে মেনে নেয় নি, তারা দাবি করে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে হরিসিংকে বাধ্য করা হয়েছে চুক্তি করতে। চুক্তির পর দিন ভারত তার নিয়মিতসৈন্য বাহিনী প্রেরণ করে এবং ননস্টেট বাহিনীকে হটিয়ে কাশ্মীরের দখলনেয়। একই সময় পাকিস্তানও তাদেরসেনাবাহিনী প্রেরণ করে। ফলে স্বাধীনহবার প্রথম বছরেরই যুদ্ধ বেঁধে যায়দুটি নতুন দেশের মধ্যে। চুক্তি অনুসারেহরি সিং কাশ্মীরে পূর্ণ স্বায়ত্তত্বশাসনচেয়ে নেন এবং শেখ আবদুল্লাহকেঅন্তর্বর্তী কালীন সরকারের প্রধানঘোষণা করেন। এই যুদ্ধের ফলেকাশ্মীর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এক অংশ চলে যায় ভারতের নিয়ন্ত্রণে। যার নাম হয় জম্মু এবং কাশ্মীর এবংপাকিস্তানের অংশের নাম হয় আজাদকাশ্মীর।
জাতিসংঘে কাশ্মীর :
১৯৪৮ সালে কাশ্মীর সমস্যা নিয়েবৈশ্বিক সমাধানের জন্য ভারত ওপাকিস্তান উভয় দেশ জাতি সংঘেরসাহায্য প্রার্থনা করে। সমস্যা সমাধানেরজন্য জাতিসংঘ ভারত ও পাকিস্তানসংকট সমাধান বিষয়ক কমিশন গঠনকরে। সমাধান হিসেবে নিরাপত্তাপরিষদের রিজুলেশন ৪৭ প্রস্তাব করাহয় যেখানে ভারত এবং পাকিস্তানকেতাদের নিজ নিজ সৈন্য সরানোরনির্দেশ দেওয়া হয় এবং সর্বশেষ গণভোটের আয়োজন করতে বলা হয়। কিন্তু দিন শেষে ভারত এবং পাকিস্তানকোন পক্ষই তাদের সৈন্য হটিয়ে নেয়নি। কার্যত জাতিসংঘের সমাধান ব্যর্থহয়ে যায়। ১৯৪৮ সালে অস্ত্র বিরতিচুক্তির মাধ্যমে লড়াই বন্ধ হয় এবং১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তি অনুযায়ীভারত এবং পাকিস্তান কাশ্মীরসমস্যাকে নিজেদের মধ্যে সমাধানকরার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং একইসাথে ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ অবতারনাকরা হয়। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালেভারত চীন যুদ্ধের ফলে চীন আকসাইচীন অঞ্চল দখল করে নেয়। আবার, পাকিস্তানের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে(The Trans Karakorum Tract) কাশ্মীরের বিশাল একটি অংশ, সাশগ্রাম ভ্যালি চীনকে উপহার দেয়। ফলে মূল কাশ্মীর ভূখণ্ড তিন ভাগেবিভক্ত হয়ে যায়।
অপরদিকে ১৯৪৮ সালে ভারতীয়সরকার শেখ আবদুল্লাহকে প্রধানমন্ত্রীপদে ঘোষণা করে কাশ্মীরকে পূর্ণ সায়ত্ত্বশাসন দিয়ে দেয়। কাশ্মীরসম্পর্কে ভারতীয় সংবিধানে একটিআর্টিকেল রয়েছে যা আর্টিকেল৩৭০ নামে বেশ পরিচিত। এরই মধ্যেদিয়ে বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রবাহিতহয়েছে কাশ্মীরের করুণ ইতিহাস। কাশ্মীরের সাধারন জনগণের উপরচলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নানাবিধঅত্যাচার। কারণ কাশ্মীরের জনগণপরাধীন থাকতে চায় না, তাদের দাবিএকটাই নিজেদের প্রাপ্য অধিকারফিরে পাওয়া। এখনো কাশ্মীরেরপ্রতিটি অলি গলিতে স্লোগান ওঠে, “ হক হামারা আজাদি, সিনকে লংঙ্গেআজাদি”
===সংবিধানের ৩৭০ নং অনুচ্ছেদ===
৩৭০ ধারা সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল ১৯৪৯ সালের ১৭ অক্টোবর। এই ধারাবলে জম্মুকাশ্মীরকে ভারতীয় সংবিধানের আওতামুক্ত রাখা হয় (অনুচ্ছেদ ১ ব্যতিরেকে) এবং ওই রাজ্যকে নিজস্ব সংবিধানের খসড়া তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়। এই ধারা বলে ওই রাজ্যে সংসদের ক্ষমতা সীমিত। ভারতভুক্তি সহ কোনও কেন্দ্রীয় আইন বলবৎ রাখার জন্য রাজ্যের মত নিলেই চলে। কিন্তু অন্যান্য বিষয়ে রাজ্য সরকারের একমত হওয়া আবশ্যক। ১৯৪৭ সালে, ব্রিটিশ ভারতকে ভারত ও পাকিস্তানে বিভাজন করে ভারতীয় সাংবিধানিক আইন কার্যকর হওয়ার সময়কাল থেকেই ভারতভুক্তির বিষয়টি কার্যকরী হয়।
ভারতভুক্তির শর্ত হিসেবে জম্মু কাশ্মীরে ভারতীয় সংসদ প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ- এই তিনটি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে ক্ষমতাধর।
৩৭০ ধারাকে সাময়িক বলে বিবেচনা করা যেতেই পারে। জম্মু কাশ্মীর বিধানসভা এ ধারা পরিবর্তন করতে পারত, একে বিলোপ করতে পারত বা একে ধারণ করতে পারত। বিধানসভা একে ধারণ করার পক্ষে মত দেয়। আরেকটি ব্যাখ্যা হল- গণভোট না হওয়া পর্যন্ত ভারতভুক্তির সিদ্ধান্ত সাময়িক বলে গণ্য।
রাষ্ট্রপতির আদেশের ভিত্তিতে অনুচ্ছেদ ৩৭০ (৩) বিলোপ করা যেতেই পারে। তবে তেমন নির্দেশের জন্য জম্মু কাশ্মীরের গণপরিষদের সম্মতি প্রয়োজন। কিন্তু গণপরিষদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে ২৬ জানুয়ারি, ১৯৫৭-তে। ফলে একটা মত হল, ৩৭০ ধারা আর বিলোপ করা যেতে পারে না। তবে এ ব্যাপারে আরেকটি মতও রয়েছে, সেটা হল রাজ্য বিধানসভার সম্মতিক্রমে এই বিলোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
৩৭০ ধারার ১ নং অনুচ্ছেদ উল্লিখিত হয়েছে, যেখানে রাজ্যগুলির তালিকায় জম্মু-কাশ্মীরকে রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে ৩৭০ ধারার মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীরে সংবিধান লাগু হবে। তবে ১৯৬৩ সালের ২৭ নভেম্বর নেহরু লোকসভায় বলেছিলেন যে ৩৭০ ধারার ক্ষয় হয়েছে। জম্মু কাশ্মীরে ভারতীয় সংবিধান কার্যকর রাখার জন্য অন্তত ৪৫ বার ৩৭০ ধারা ব্যবহার করা হয়েছে। এ ভাবে রাষ্ট্রপতির আদেশের ভিত্তিতে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রায় নাকচ করা হয়েছে। ১৯৫৪ সালের নির্দেশ মোতাবেক প্রায় গোটা সংবিধানই, সমস্ত সংশোধনী সহ জম্মু-কাশ্মীরে কার্যকর করা হয়েছে। ৯৭টির মধ্যে ৯৪টি যুক্তরাষ্ট্রীয় তালিকা জম্মু কাশ্মীরে লাগু, ৩৯৫ টি অনুচ্ছেদের মধ্যে ২৬০টি রাজ্যে কার্যকর, ১৩টির মধ্যে ৭টি তফশিলও লাগু রয়েছে সেখানে।
জম্মু কাশ্মীরের সংবিধান সংশোধনের জন্য ৩৭০ ধারাকে একাধিকবার ব্যবহার করা হয়েছে যদিও ৩৭০ ধারার অন্তর্গত ভাবে রাষ্ট্রপতিরও সে ক্ষমতা নেই। পাঞ্জাবে এক বছরের বেশি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি রাখতে সরকারের ৫৯তম, ৬৪ তম, ৬৭ তম এবং ৬৮তম সংবিধান সংশোধনী প্রয়োজন হয়েছিল। কিন্তু জম্মুকাশ্মীরের ক্ষেত্রে শুধু ৩৭০ ধারা প্রয়োগ করেই সে কাজ চলে যায়। তালিকাভুক্ত রাজ্যগুলির জন্য আইন প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ২৪৯ নং অনুচ্ছেদ জম্মু কাশ্মীরে লাগু করার জন্য বিধানসভায় কোনও প্রস্তাব পাশ করানো হয়নি, রাজ্যপালের সুপারিশের ভিত্তিতেই তা কার্যকর হয়ে যায়। এসব দিক থেকে দেখলে ৩৭০ ধারা জম্মু কাশ্মীরের অধিকারকে অন্য রাজ্যগুলির তুলনায় খর্ব করে। এখন ৩৭০ ধারা, জম্মু কাশ্মীরের থেকে ভারত রাষ্ট্রের পক্ষে বেশি সহায়ক।
2019 খ্রিস্টাব্দের 5 আগস্ট ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ জম্মু ও কাশ্মীর 370 ধারা এবং 35A ধারা কে অকার্যকর করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা ও সুযোগ সুবিধা খর্ব করেন। এবং জম্মু ও কাশ্মীরকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে সেই দুটিকে ভারতের দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
জম্মু কাশ্মীরের সংবিধানের ৩ নং অনুচ্ছেদে বলা রয়েছে যে জম্মু কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
মুগ্ধতা - রাকিব দেওয়ান
মুগ্ধতা
রাকিব দেওয়ান
আমি মুগ্ধ বাংলার রুপে গুনে
আমি কৃতজ্ঞ নিসর্গ রমণীর সৌন্দর্যে,
কি অবলীল সৌন্দর্য মুগ্ধতা ছেয়ে যায়
যখন দেখি দু'চোখ বেয়ে।
মিষ্টি হাসি নয় ম্লান হাসি
ভালবাসি চিরদেখা সেই মুখখানি,
খোলাচুল সুন্দর হাসি
এ যেন স্বর্গের দেবী সম্মুখে।
হাতের ও দেহের বাচন ভঙ্গি
যেন বাচন নয় অন্তরেরি সঙ্গী।
হে রুপসী নারী
নিয়েছো কেন অন্তরকাড়ী
মুগ্ধতা ছড়াও কেন
যেন নিজেতে বাতুলতা বহে!!!
প্রিয়দর্শিনী, তুমি ডায়াসে অপেক্ষমাণ,
তোমার দু'চোখে উপচেপড়া
সাগরের নীলাভ জলরাশির
আছড়েপড়া উথালপাতাল ঢেউ
হাতছানি দেয়, অস্থির করে বার বার।
বিভাগ পরিচিতি
রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ পরিচিতি রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পুরনাে সমৃদ্ধ বিভাগ । এ বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৮ সালে । এখানে রয়েছে সমৃদ্ধ জ্ঞানভাণ্ডার , মানসম্পন্ন শিক্ষক , স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী , যাদের অনেকেই দেশে - বিদেশে নিজ নিজ পেশায় বিশেষ অবদান রেখে যাচ্ছেন । ১৯৬৯ - ১৯৭০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক ( সম্মান ) কোর্স চালু করা হয় । প্রফেসর ড . রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান । চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩ অনুযায়ী তিনি । পরবর্তীকালে বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং এই পদে তিনি ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ছিলেন ।
এই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএসএস ( সম্মান ) , এমএসএস , এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান । করা হয় । এখানে বিভিন্ন প্রােগ্রামে বিভিন্ন সংখ্যায় শিক্ষার্থী ভর্তি হয় । বর্তমানে পিএইচডি প্রোগ্রামে ০২ জন , এমফিল প্রোগ্রামে ২০ জন , এমএসএস প্রােগ্রামে ৯৮ জন এবং বিএসএস । ( সম্মান ) প্রােগ্রামে প্রায় ৭৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে । খ্যাতিসম্পন্ন জ্ঞানী গবেষক ও ত্যাগী । শিক্ষকমণ্ডলী এ বিভাগের সম্পদ , যাদের রয়েছে দেশি ও আন্তর্জাতিক উচ্চতর ডিগ্রি । তাঁদের অনেকেই শুধু বাংলাদেশে নয় , বরং দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও রাষ্ট্রনীতি বিষয়ে । শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে পাণ্ডিত্যপূর্ণ জ্ঞানের স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছেন ।
এই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএসএস ( সম্মান ) , এমএসএস , এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান । করা হয় । এখানে বিভিন্ন প্রােগ্রামে বিভিন্ন সংখ্যায় শিক্ষার্থী ভর্তি হয় । বর্তমানে পিএইচডি প্রোগ্রামে ০২ জন , এমফিল প্রোগ্রামে ২০ জন , এমএসএস প্রােগ্রামে ৯৮ জন এবং বিএসএস । ( সম্মান ) প্রােগ্রামে প্রায় ৭৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে । খ্যাতিসম্পন্ন জ্ঞানী গবেষক ও ত্যাগী । শিক্ষকমণ্ডলী এ বিভাগের সম্পদ , যাদের রয়েছে দেশি ও আন্তর্জাতিক উচ্চতর ডিগ্রি । তাঁদের অনেকেই শুধু বাংলাদেশে নয় , বরং দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও রাষ্ট্রনীতি বিষয়ে । শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে পাণ্ডিত্যপূর্ণ জ্ঞানের স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছেন ।
Subscribe to:
Posts (Atom)















